Before You Resign: এই ডকুমেন্টগুলো নিতে ভুলবেন না! ভবিষ্যতের ঝামেলা এড়ানোর সম্পূর্ণ গাইড

 চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত ছোট কিছু নয়। নতুন পথের শুরু যতটা উত্তেজনাপূর্ণ, ততটাই ঝুঁকিপূর্ণ। আর এই ঝুঁকির বড় অংশটাই লুকিয়ে আছে আপনার ডকুমেন্টেশন ভুলে যাওয়ার মধ্যে।


অনেকেই রেজাইন করে দিয়ে আত্মবিশ্বাসী মনে করেন “সব ঠিক হয়ে যাবে।” কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আপনি যদি কিছু মৌলিক ডকুমেন্টগুলো ঠিকমতো সংগ্রহ না করেন, তাহলে সামনে আসবে এমন ঝামেলা যেগুলো পুরো ক্যারিয়ারকে স্লো করে দিতে পারে।

যেমন,

নতুন চাকরির joining আটকে যাওয়া

ব্যাংকের লোন delay

PF claim ঝুলে থাকা

বা এমনকি আগের চাকরির প্রমাণ দিতে না পারা

এই ব্লগে আমি আপনাকে দেখাবো চাকরি ছাড়ার আগে অবশ্যই সংগ্রহ করতে হবে এমন ৫টি গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট, কেন এগুলো লাগে, এবং কোন ভুলগুলো করলে বড় সমস্যায় পড়তে হয়।

________________________________________

১) এক্সপেরিয়েন্স/রিলিভিং লেটার

এটা আপনার ক্যারিয়ার লাইফের জন্মসনদ।

এতে থাকে—

আপনি কোথায় কাজ করেছেন

কতদিন করেছেন

আপনার পদবি কী ছিল

আপনার চাকরি ছাড়ার অফিসিয়াল তারিখ

নতুন চাকরিতে verification বা joining-এর সময় প্রথমেই এগুলো দেখা হয়। অনেক প্রতিষ্ঠান রিলিভিং লেটার ছাড়া onboarding করে না।

👉 HR বা ম্যানেজারের কাছ থেকে অফিসিয়াল লেটারহেডে সাইনসহ সংগ্রহ করুন।

👉 ইমেইলের কপি সেভ করে রাখুন—ফাইল কখনও হারালেও প্রমাণ থাকবে।

________________________________________

২) শেষ ৩–৬ মাসের স্যালারি স্লিপ

যেখানে টাকার বিষয়, সেখানে এই ডকুমেন্টই আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।

এগুলো কাজে লাগে—

নতুন চাকরিতে salary negotiation

ব্যাংক loan

ক্রেডিট কার্ড approval

visa বা foreign verification

অনেকে ভাবে “এগুলো পরে HR থেকে নিয়ে নেব।” এটা বড় একটা ভুল। আপনি চাকরি ছাড়লে বেশিরভাগ HR আর এসব পাঠাতে আগ্রহী হয় না।

👉 চাকরি ছাড়ার আগে ইমেইলে বা প্রিন্টেড কপি নিয়ে নিন।

________________________________________

৩) TDS/Income Tax Certificate

বেশিরভাগ মানুষ এটাকে তুচ্ছ ভাবে। কিন্তু এই ডকুমেন্টই ভবিষ্যতে আর্থিক credibility প্রমাণের বড় হাতিয়ার।

এগুলো দরকার হয়—

ট্যাক্স ফাইল করতে

লোন যাচাইয়ে

বিদেশে চাকরি বা higher study verification

ফ্রিল্যান্সার হলে income proof হিসেবে

👉 ফাইনাল স্যালারি পাওয়ার পর HR/Accounts সাধারণত এগুলো ইস্যু করে।

👉 ইমেইল + হার্ডকপি দুইটাই সেভ রাখুন।

________________________________________

৪) প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস

এটা ভুলে যাওয়া সবচেয়ে কমন এবং সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভুল। অনেকেই PF অ্যাকাউন্টে জমা থাকা টাকা বছরের পর বছর ফেলে রাখেন কারণ—

অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস জানা নেই

কোম্পানি বদলের পর PF transfer করেননি

বা পরে claim করার সময় তথ্য মেলেনি

এই ভুলের ফল? PF টাকা আটকে যায়। কখনও কখনও PF অফিসে চিঠি, কাগজ, অ্যাফিডেভিট মিলে বড় এক ঝামেলার চক্র শুরু হয়।

👉 চাকরি ছাড়ার আগে PF নম্বর, UAN নম্বর, employer contribution স্টেটাস—সব জেনে নিন।

👉 নতুন চাকরিতে ট্রান্সফার করতে এগুলো অপরিহার্য।

________________________________________

৫) No Objection Certificate (NOC)

সব কোম্পানি দেয় না—কিন্তু যদি পেতে পারেন, এটা ভবিষ্যতের জন্য সেভ করা সোনার ডকুমেন্ট।

NOC কাজে লাগে—

রেফারেন্স চেকের সময়

সরকারি ফর্মালিটিতে

কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট প্রমাণ করতে

কোম্পানি ছাড়ার সময় আপনার অবস্থান ক্লিয়ার করতে

এটা দেখায় যে, আপনি কোনো সমস্যা না করে, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেছেন।

👉 HR-এর কাছে অনুরোধ করুন। না হলেও সমস্যা নেই, কিন্তু পেলে ভবিষ্যত সহজ হবে।

________________________________________

শেষ কথা: চাকরি ছাড়ার আগে এই ৫টি ডকুমেন্ট আপনার নতুন যাত্রার বীমাআপনি নতুন চাকরি, নতুন স্বপ্ন, নতুন পরিকল্পনার দিকে এগোচ্ছেন—শুভকামনা রইল। কিন্তু ডকুমেন্টেশন ভুলে গেলে আপনার গতি এমনভাবে থেমে যেতে পারে, যেটা আপনি এখন কল্পনাও করছেন না।

সুতরাং—

এই লিস্ট সেভ করে রাখুন।

চাকরি ছাড়ার আগের চেকলিস্ট হিসেবে ব্যবহার করুন।

সঠিক সময়ে সঠিক ডকুমেন্ট সংগ্রহ করলে—

নতুন চাকরিতে joining হবে smooth

লোন প্রসেস আটকাবে না

ট্যাক্স ফাইলিং হবে সহজ

PF নিয়ে ঝামেলা হবে না

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন